জগৎটা আসলেই বিচিত্র, মানুষকে চেনা অনেক কষ্ট। [আত্মকথা-২৩]

জগৎটা আসলেই বিচিত্র, মানুষকে চেনা অনেক কষ্ট। [আত্মকথা-২৩]

Background Music


তার সাথে আমার পরিচয় হয় করোনার সময় অনলাইন কোচিং থেকে। সে তখন আমার বন্ধু হয়নি। সে আমার প্রিয় মানুষ হয়ে গেছে। আমি তার সাথে সবসময় সত্যি কথা বলতাম। আমি অনেক রিলেশন করছি। কার সাথে কী করছি সব বলতাম। তাও আমাদের সম্পর্ক ছিল অনেক সুন্দর। আমাদের সম্পর্কে অনেক অনেক ঝগড়া হতো কিন্তু ঝগড়া গুলো ছিল ভালোবাসা বাড়ানোর একটি উপায়।

আমাদের ঝামেলা হওয়া মানে আমাদের দেখা করার একটি কারণ হতো। আমাদের সম্পর্কটা ছিল অনেক সুন্দর। আমরা ছিলাম সমবয়সি। আমাদের প্রতিটা কাজ ২ জন মিলে ডিসিশন নিতাম। সে আমাকে অনেক সাপোর্ট করতো আর আমি তাকে অনেকে সাপোর্ট করতাম।

কিন্তু আমাদের মাঝে সমস্যা ছিল একটি সে ছিল ভালো ছাত্রী আর আমি তেমন না। আমি ছোট থেকেই একটু দুষ্ট ছিলাম। আমি ছিলাম এভারেজ ছাত্র বেশি ভালো না বেশি খারাপ না। এটাতে তেমন সমস্যা ছিল না। সমস্যা দেখা দেয় আমাদের HSC পরীক্ষার পর। সে এডমিশন এর জন্য কোচিং করে, আমিও ভর্তি হই। কিন্তু আমার আম্মু একটা সরকারি চাকরি অনেক ইচ্ছে ছিল। আমার কখনো ইচ্ছে ছিল না। তাও আম্মুর কথা রাখতে আমার যেতে হয়। কারণ আমার আম্মু আমার সব থেকে সেরা বন্ধু। আমি সব আম্মুকে বলি। আমার অনেক মেয়ে বন্ধু আছে সবার সাথে অনেক ঘুরতে যাওয়া হতো। এ সবও আম্মু জানে।

কিন্তু এডমিশন এর সময় তার ১ম ১/২ টা ভার্সিটিতে হয় নাই তখন সে বলত তুমি চলে যাও। আমাকে চলে যাওয়ার কথা বললে তার সাথে চরম ঝগড়া লাগতাম। কারন আমরা ১ম ই কথা দিয়েছিলাম আমরা কখনো কাউকে ছাড়ব না। যত বাধা আসুক।

কিন্তু আমি চাকরিতে যাওয়ার পর ১ মাস ফোন না থাকায় তার সাথে যোগাযোগ নাই। আমি ৩৪ দিন পর বাসায় আসার পর আমি তাকে ফোন দেই। দেখি সে আমাকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দিছে। তারপর আম্মুর ফোন দিয়ে তাকে কল করি সে রিসিভ করে। পরে বললাম ব্লক খুলতে। খুলছে পরে জিজ্ঞেস করছি সে আমার সাথে ফালতু কথা বলে। পরে সে বলে যে তার বুয়েটে, ঢাকা ভার্সিটি, বিইউপি সহ আরও কয়েকটাতে হয়। তারপর সে আমার কথা তার পরিবারকে বলার পর না করে।

তাই সে আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। আসলে তার ছেড়ে যাওয়ার মূল কারণ আমার কোনো ভার্সিটিতে হয় নাই আর সে ভালো ভার্সিটিতে চান্স পাইছে। তাই সে আর আমার সাথে থাকতে চায় না। তার আম্মু আমাকে ফোন দিয়ে বলে তাকে না ডিসটার্ব করতে।

এখন সে আমাকে শর্ত দিয়েছে আমি প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়তাম। পরে বিসিএস দিতাম। তার সাথে আমার ৩ বছরের সম্পর্ক। এসব শেষ হয় চান্স না পাওয়ার কারনে। আর তার কাছে এখন ৩ বছর কিছু না। এখন সে অনেক উপরে গেছে তাই এখন আমি কেউ না। সে আমার সাথে সম্পর্ক শেষ করে ৫/৪/২৪ তারিখে। হয়তো আমি মানুষ চিনতে ভুল করেছি তাই আজ আমার সাথে এমন হয়েছে।

আসলে সবাই স্বার্থের পিছনে ঘুরে স্বার্থ শেষ হলে চেনে না কেউ। আমি তাকে কখনো ক্ষমা করব না। আমি চাই সে ভালো থাকতে। অনেক বড় কিছু হওয়ার জন্য আমাকে ছাড়ছে সে হোক। জগৎটা আসলেই বিচিত্র মানুষকে চেনা অনেক কষ্ট। ভালো থাক। বিদায়।